কাটজমি দুর্নীতির অভিযোগ - নথি দেখাতে ব্যর্থ রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়।
(কাটমানি নিয়ে জেলা শাসকের কাছে একটি ডেপুটেশনের ছবি গত ৪ তারিখের।)
নিজস্ব সংবাদদাতা : রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় ভুয়ো কাগজপত্র দেখিয়ে প্রায় ৩০ শতক জমি দখলের অভিযোগে এখন রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর জেলার ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের অফিসের কাঠগোড়ায়। অভিযোগ করেছেন উত্তর দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত রায়গঞ্জ শহরের বীরনগরের বাসিন্দা শ্রী নারায়ন চন্দ্র দাশ মহাশয়। তিনি পরিষ্কার অভিযোগ করেন তার জমির দাগ নম্বর পাল্টে ২০১৭ সালে এই মিউটেশন করা হয়েছে এবং রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমার জমি জবরদখল করে রেখেছে।ভূমি সংস্কার দপ্তরের নিকট জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার এই জমি সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে শুনানির জন্য দুই তরফের প্রতিনিধিকে ডাকা হয়েছিল ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকের সামনে। জমির অভিযোগকারী নারায়ণ চন্দ্র দাস এর তরফ থেকে জমির সমস্ত নথি দেখানো হলেও, বিশ্ববিদ্যালয় কোন জমি সংক্রান্ত কোনো অনুমতিপত্র বা নথিপত্র দেখাতে পারেনি।
বি,এল,আর,ও সাহেব শ্রী প্রদীপ গিরি বাবু বলেন, দুপুর তিনটে নাগাদ হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল উভয়পক্ষকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে এসেছিলেন রেজিস্টার শ্রী দুর্লভ সরকার ও সহকারী রেজিস্ট্রার। অপরদিকে নারায়ণ চন্দ্র দাসের পরিবারের তরফ থেকে বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি হিসেবে এসেছিলেন এবং নারায়ন বাবু তার জমি সংক্রান্ত সমস্ত নথি দেখাতে পারলেও, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কিন্তু জমি সংক্রান্ত কোন নথিপত্র দেখাতে পারেননি।
চলতি মাসের ১৭ তারিখে আবার শুনানির দিন ধার্য হয়েছে। উক্ত দিনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং জমির দাবিদার নারায়ণ চন্দ্র দাসের প্রতিনিধিদের থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি আরোও বলেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে ১৫ দিন সময় চেয়েছিলেন এই জমি সংক্রান্ত নথি দেখানোর জন্য, কিন্তু আমি সাত দিন সময় দিয়েছি।
এদিকে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য আমাদের সমস্ত প্রকার জমির কাগজপত্র আমাদের উকিলের কাছে রয়েছে, উনি আসলেই আমরা জমি সংক্রান্ত সব নথিপত্র দেখাবো।
উল্লেখ্য, এই জমি সংক্রান্ত ঘটনা নিয়ে চলতি মাসের গত ৪ তারিখে একমাত্র উত্তর দিনাজপুর জেলা কংগ্রেসের তরফ থেকে মাননীয় বিধায়ক শ্রী মোহিত সেনগুপ্ত মহাশয়ের নেতৃত্বে ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকের সামনে তুলে ধরা হয় এবং অতিসত্ত্বর এর তদন্ত করার কথা বলেন। তারপরে কাটমানি নিয়ে জেলা শাসকের কাছে একটি ডেপুটেশন দেওয়া হয়।
জেলা কংগ্রেস সভাপতি মাননীয় বিধায়ক শ্রী মোহিত সেনগুপ্ত মহাশয় বলেন, অতিসত্বর এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ না নিলে জেলায় বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়া হবে। তারপরেই এই ভূমি সংস্কার দপ্তরের টনক নড়ে এবং গত বৃহস্পতিবার এই জমি সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে শুনানির জন্য দুই তরফের প্রতিনিধিকে ডাকা হয়েছিল ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকের সামনে।
উক্ত ঘটনায় রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে উত্তর দিনাজপুর জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক শ্রী পবিত্র চন্দ মহাশয় বলেন, রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৭ দিন কেন, সাত বছরেও ওই ৩০ শতক জমির মালিকানা দেখাতে পারবে না।
Raiganj University Involved in Land Grabbing - Failed to show Documents in BLRO Office।

Comments
Post a Comment